২০শে আষাঢ়, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ| ৪ঠা জুলাই, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ| ৪ঠা জিলহজ, ১৪৪৩ হিজরি| রাত ২:৫২| বর্ষাকাল|
শিরোনাম
শ্রীপুরে জমির মালিকানা দ্বন্ধে ১’শ কলাগাছ কাটলো বড় ভাই মা দিবসে আল-হেরা হাসপাতালের বিনামুল্যে মেডিকেল ক্যাম্প মাওনা বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের ২০০৩ব্যাচের ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত ময়মনসিংহে ইনফিনিটি মেগা মলের উদ্বোধন শ্রীপুরে শিক্ষকের উপর হামলা, প্রতিবাদে মানববন্ধন শ্রীপুরে শিক্ষকের উপর হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব নিলেন সাংবাদিক আবুল কালাম আজাদ শ্রীপুরে চাঁদাবাজির মামলায় ইউপি সদস্য গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে বিক্ষোভ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে গুণীজনদের সম্মাননা দিলো স্টুডেন্ট এন্ড হিউম্যান লিংক শ্রীপুরে জমকালো আয়োজনে যুগান্তরের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

জিওফিতে প্রতারিত হাজারো গ্রাহক, খোঁজ মিলছে না মালিকের

Reporter Name
  • আপডেট টাইম : সোমবার, অক্টোবর ৪, ২০২১,
  • 42 বার

চুয়াডাঙ্গার ই-কমার্স সাইট ‘জিওফি’র চটকদার বিজ্ঞাপনে হাজার হাজার গ্রাহক প্রতারণার শিকার হয়েছেন। অনিবন্ধিত এই প্রতিষ্ঠানটির ঠিকানা ‘সিনেমা হলপাড়া, চুয়াডাঙ্গা’ দেওয়া থাকলেও তাদের কোনো অফিসের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। প্রতিষ্ঠানটি গ্রাহকদের প্রায় এক কোটিরও বেশি টাকা নিয়ে উধাও হয়ে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।  

হাজারো গ্রাহকের কাছ থেকে টাকা নিয়ে পণ্য দিচ্ছে না জিওফি। আবার রিফান্ডও দিচ্ছে না। তাদের সঙ্গে যোগাযোগের নম্বরগুলোতে ফোন করলে কল যায় না। নেই কোনো হেল্প লাইনও। রিফান্ড বা ডেলিভারির বিষয়ে কথা বললেই ফেসবুক থেকে ব্লক করা হয়। কমেন্ট করলেও মুছে দেওয়া হয়।

ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অল্প দামে মোটরসাইকেল বিক্রির জন্য পরিচিতি পায় জিওফি। মোটরসাইকেলসহ অন্যান্য পণ্য ২১/৩৩ দিনে ডেলিভারি দেওয়ার কথা থাকলেও ৪৫ দিনেও দেয়নি জিওফি। ইতোমধ্যে চুয়াডাঙ্গা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরে তাদের বিরুদ্ধে বেশ কিছু অভিযোগ জমা পড়েছে। তবে এখনও পণ্য কিংবা টাকা ফেরত পাননি হাজারো গ্রাহক। খোদ প্রশাসনও জানে না এই প্রতিষ্ঠানটির কথা। প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে চলছে রমরমা ব্যবসা। বিষয়টি জানার পর প্রশাসনও এখন নড়েচড়ে বসেছে। তবে প্রতিষ্ঠানটির প্রকৃত মালিকের খোঁজ মিলছে না। তাদের ওয়েবসাইটে দেওয়া নম্বরগুলোতে ফোন দিলে তা বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।

নগদের চুয়াডাঙ্গা কার্যালয় থেকে জানা যায়, এই এজেন্ট নম্বরটি ই-কমার্স সাইট আদিয়ান মার্টের। তারা গ্রাহকের টাকা রিফান্ড দিয়ে থাকে এই নম্বর থেকে। এজেন্টের নাম দেওয়া হয়েছে  এম আর ট্রেডার্স।

সরেজমিনে আদিয়ান মার্টের অফিসের নিচে গিয়ে এম আর ট্রেডার্সের সন্ধান মেলে। দোকানের ওপরে আদিয়ান মার্টের লোগো দেওয়া। আদিয়ান মার্টের সব মালামাল এম আর ট্রেডার্স থেকে গ্রাহকদের ডেলিভারি দিতে দেখা যায়।

আদিয়ান মার্টের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) জুবায়ের সিদ্দিকী এই এজেন্ট নম্বরের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, তাদের কোনো নগদের এজেন্ট নম্বর নেই।

এম আর ট্রেডার্সের কথা বললে তিনি বলেন, এই নামে অনেকেরই দোকান বা প্রতিষ্ঠান থাকতে পারে।

জিওফির গ্রাহক চট্টগ্রামের মেহেদি হাসান ঢাকা পোস্টকে বলেন, গত ১৮ আগস্ট ডিসকভার ১১০ সিসির মোটরসাইকেল বাবদ তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ৭৮ হাজার ৫০০ টাকা পেমেন্ট করি। ৩৩ দিনের মধ্যে মোটরসাইকেলটি ডেলিভারি দেওয়ার কথা ছিল। এখনো পাইনি। গত ১ সপ্তাহ ধরে তাদের দেওয়া নম্বরে ফোন দিয়েছি। ফেসবুক পেজে মেসেজ দিয়েছি, ই-মেইল করেছি। কোনো কাজ হয়নি। সর্বশেষ দুদিন আগে আমাকে রিফান্ড (টাকা ফেরত) দেবে বলে জানানো হয়। এরপর আর যোগাযোগ করেনি তারা। তাদের সব নম্বর বন্ধ।

ঢাকার উত্তরার শাওন ইসলাম বলেন, গত ১৮ আগস্ট ডিসকভার ১১০ সিসির মোটরসাইকেল বাবদ ৭৮ হাজার ৫০০ টাকা পরিশোধ করি। ৩৩ দিনে পণ্য ডেলিভারি দেওয়ার কথা থাকলেও এখনো পাইনি। রিফান্ডও দিচ্ছে না আবার মোটরসাইকেলও দিচ্ছে না। তাদের সঙ্গে কোনো যোগাযোগও করতে পারছি না। শেষে চুয়াডাঙ্গা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরেও অভিযোগ দিয়েছি।

এদিকে সর্বশেষ শনিবার (০২ অক্টোবর) জিওফি অফিশিয়াল হেল্প/সাপোর্ট নামে জিওফির অফিশিয়াল ফেসবুক গ্রুপ একটি পোস্টে বলা হয়- গেটওয়ে অনেক অর্ডার আমরা ডেলিভারি করেছি কিন্তু গেটওয়ে থেকে আমরা সময় মত পেমেন্ট পাচ্ছি না। তাই যাদের গেটওয়ে অর্ডার আছে কিন্তু ডেলিভারি হয়নি তারা আমদেরকে ব্যাংক ডিটেইলসসহ মেইল করুন। আমরা লিস্ট গেটওয়েতে পাঠাব। আপনাদের কাউকে গেটওয়েতে ফোন করার দরকার নাই। যাদের ব্যাংক পেমেন্ট আছে আমরা গেটওয়ে থেকে অর্থ ছাড়ের ওপর ভিত্তি করে ম্যানুয়ালি রিফান্ড করব। প্রতি সপ্তাহে কী পরিমাণ রিফান্ড হচ্ছে তার যাবতীয় বিস্তারিত আমরা গ্রুপে আপডেট দিব।

সম্প্রতি জিওফি অফিশিয়াল হেল্প/ সাপোর্ট গ্রুপে মোমিন নামে এক যুবক লাইভ করেন। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মোমিন পূর্বে ই-কমার্স সাইট আদিয়ান মার্টে চাকরি করতেন। কয়েকদিন আগে চাকরি ছেড়ে দেন।

গ্রুপটি বিশ্লেষণ করে জানা যায়, প্রায় কয়েক হাজার গ্রাহক প্রতারণার শিকার হয়েছেন। এক কোটিরও বেশি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে। বিষয়টি জানার পর চুয়াডাঙ্গার প্রশাসন নড়েচড়ে বসেছে।

বঙ্গবন্ধু ছাত্র পরিষদের চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার সভাপতি মেহেদি হাসান হিমেল মল্লিক ঢাকা পোস্টকে বলেন, প্রতারণার শিকার হওয়া চট্টগ্রামের কয়েকজন আমাকে বিষয়টি জানান। তবে জিওফি নামে কোনো প্রতিষ্ঠান চুয়াডাঙ্গায় আছে তা আমি কখনো শুনিনি। বলা যায় তারা আন্ডারগ্রাউন্ডে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। প্রতিদিন প্রচুর গ্রাহক তাদের দ্বারা প্রতারিত হচ্ছে। এদেরকে আইনের আওয়ায় এনে কঠোর শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।

চুয়াডাঙ্গার জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম সরকার ঢাকা পোস্টকে বলেন, এই প্রতিষ্ঠানের নাম আগে কখনো শুনিনি। আমাদের কাছে কেউ কোনো অভিযোগ করেনি। আর এভাবে সময় মতো পণ্য বা টাকা ব্যাক না দেওয়া হতাশাজনক। ঘটনার সত্যতা পেলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

সূত্রঃ ঢাকাপোষ্ট.কম

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ ক্যাটাগরীর আরো সংবাদ