বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২০, ০১:৩৪ অপরাহ্ন
সবশেষ :
শ্রীপুরে আমার বাড়ি আমার খামার প্রকল্পের টাকা বিতরণ শ্রীপুর উপজেলা শিক্ষা অফিসারের বিদায় সংবর্ধনা শ্রীপুর পৌরসভাকে আধুনিক পৌরসভায় রূপান্তর করতে চান সফল ছাত্র রাজনীতিক রবিন অসুস্থ সাংবাদিকের পাশে দাঁড়ালো শ্রীপুর সাংবাদিক কল্যাণ সংস্থা শ্রীপুরে দাবিকৃত চাঁদা না পেয়ে ব্যবসায়ীকে প্রাণনাশের হুমকি বিআরটিএ-এর সহকারি রাজস্ব কর্মকর্তার গ্রাহক হয়রানি-দুর্ব্যবহারের অভিযোগ শ্রীপুরে মুক্তিযোদ্ধাকে মারধর, জমি দখলের ঘটনায় মামলা বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন ও সামাজিক দায়বদ্ধতা মাথায় রেখে সাংবাদিকদের কাজ করতে হবে সাংবাদিকদের কল্যাণে কাজ করবে শ্রীপুর সাংবাদিক কল্যাণ সংস্থা শ্রীপুরে সীমানা প্রাচীর ভাঙচুর করে জমি দখলে নেয়ার হুমকি

কষ্টের আরেক নাম ১৫ আগষ্ট-অধ্যাপিকা রুমানা আলী টুসি

অধ্যাপিকা রুমানা আলী টুসি
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ১৫ আগস্ট, ২০২০
  • ৫২ বার পঠিত

কিছু প্রশ্নের উত্তর যেমন হয় না, তেমনি কিছু কষ্ট আছে যা বলেও বুঝানো যাবে না। কিছু লেখা আছে যা লিখতে গেলে হৃদপিন্ড কেঁপে উঠে। যেমন ১৫ আগস্ট। দিনটি বাংলার আকাশ-বাতাস অশ্রুসিক্ত হওয়ার দিন। এক রাশ কালো মেঘে ছেয়ে যাওয়ার দিন। কেননা পঁচাত্তরের এই দিনে বঙ্গবন্ধুকে নির্মম ভাবে হত্যার মাধ্যমে একটি কালো অধ্যায়ের সূচনা হয়েছিল। যেটা কখনোই ভুলবার মতো না। পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে নিজ বাসভবনে সপরিবারে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করা হয়। সেটা ছিল এদেশের ইতিহাসে সব থেকে বিভৎস অধ্যায়। সেদিন ঘাতকদের উদ্যত অস্ত্রের সামনে ভীতসন্ত্রস্ত বাংলাদেশ বিহ্বল হয়ে পড়েছিল শোকে আর অভাবিত ঘটনার আকস্মিকতায়। স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল সারা বিশ্ব। নিজের কানকেও বিশ্বাস হয়নি। নিজের চোখকেও কেউ বিশ্বাস করতে পারে নি। যে মানুষটির হাত ধরে এদেশ স্বাধীনতা পেয়েছে তাকেই প্রাণ দিতে হলো কিছু বিপদগামী সেনা সদস্যের হাতে। যার ফলে নিভে যেতে বসেছিল একটি রাষ্ট্রের প্রদীপের আলো। সেখান থেকে দীর্ঘ ২১ বছর পর জননেত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরে বাংলাদেশ পায় মুক্তির দিশা। আমরা দেখতে পেয়েছি বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিচার। এতে করে কিছুটা হলে কলঙ্কমুক্ত হয়েছে বাঙালি জাতি। জীবনের চড়াই-উৎরাই পেরোতে গিয়ে রাজনীতি, আন্দোলন, গণতন্ত্র এই শব্দগুচ্ছের সাথে পরিচয় হয়। আমার শ্রদ্ধেয় পিতা এডভোকেট রহমত আলীর সান্নিধ্যে থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অনুধাবন করেছি যে উনার পথচলার মূলমন্ত্রই হচ্ছে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ। যা বাবা আমাদের মাঝে এই মনে-প্রাণে, বিশ্বাসে ডুকিয়ে দিয়ে গিয়েছেন। বাবা তৎকালীন সময়ে বাংলাদেশ কৃষকলীগ সভাপতি ও সম্পাদক এবং বাংলাদেশ আ.লীগের কৃষি বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। বঙ্গবন্ধু যাকে ‘আমার কৃষক’ বলে ডাক দিতেন। বাবাকে তিনি খুব স্নেহও করতেন। এমন একজন মহান মানুষের কাছে থেকে বাবার রাজনীতির দীক্ষা নেওয়া। ছোটবেলা থেকেই বাবার মুখে সবসময় শুনতাম বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি। রাজনীতি, সাহিত্য-শিল্প, অর্থনীতি-বিজ্ঞান, সমাজ-সংস্কৃতি, শিক্ষা-সংস্কারের শত শত বছরের ইতিহাসে সব বাঙালিকে ছাড়িয়ে শেখ মুজিবুর রহমান কীভাবে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে সক্ষম হলেন তার উত্তর অত্যন্ত সহজ– তিনি বাঙালির ইতিহাসে প্রথম স্বাধীন জাতিরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতা, জনক। একদিকে যেমন ছিলেন ইতিহাসের নায়ক-বরপুত্র আবার অন্যদিকে তিনি ইতিহাস স্রষ্টা। পুথিগত বিদ্যায়, বুদ্ধিমত্তায়, সৃজনশীলতায় তারচেয়ে সেরা বাঙালি হয়ত আরও এক বা একাধিক পাওয়া যাবে কিন্তু শেখ মুজিবের মতো অসম সাহসী, দূরদর্শী এবং তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে পারদর্শী রাজনৈতিক নেতা বাঙালিদের মধ্যে আর খুব বেশি নেই। তিনি জীবনের পাঠশালা থেকে শিক্ষা নিয়ে ক্রমাগত নিজেকে অতিক্রম করেছেন, অতিক্রম করেছেন তাদের, যাদের কাছ থেকে তিনি রাজনীতি শিখেছিলেন। সেদিক থেকে বঙ্গবন্ধুর তুলনা তিনি নিজেই। বাংলাদেশকে স্বাধীনভাবে আবির্ভূত হতে দেখেছে এবং তার পেছনে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের যে অসামান্য অবদান তা প্রত্যক্ষ করেছে, তাদের পক্ষে বঙ্গবন্ধুর কর্মকাণ্ড এবং রাজনৈতিক চিন্তাধারার মূল্যায়ন সহজ ভাষায় ব্যক্ত করা অত্যন্ত কঠিন। বাঙালি জাতির বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কখনো প্রতিহিংসার রাজনীতি করেননি। ঘোরতর রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের জন্যও ছিল তার বুক উজাড় করা ভালোবাসা। রাজনীতিতে উদারতা ও কঠোরতার যে সমন্বয় দরকার বঙ্গবন্ধু তা করেননি। তিনি ছিলেন উদার, মানবিক, সংবেদনশীল ও প্রখর দৃঢ়চেতা রাজনীতিবিদ । বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এদেশের দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর রাজনৈতিক ব্রত থেকে বিচ্যুত হননি কখনো। তিনি বলেছিলেন, ‘স্বাধীনতা অর্জন করা যেমন কষ্টকর, তা রক্ষা করা তার চাইতেও কঠিন। দেশ স্বাধীন হয়েছে। কিন্তু অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ছাড়া রাজনৈতিক স্বাধীনতা অর্থহীন। তাই সবাইকে লোভের উর্ধ্বে, স্বার্থের উর্ধ্বে উঠতে হবে। এই কথাগুলো স্বার্থান্বেষী মহলের আতে ঘা লাগায় পরিকল্পিত হত্যার মাধ্যমে ১৫ আগষ্টের জন্ম দেয়। আমরা হারাই বাঙালির ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ মহানায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। সেজন্যই আমাদের কাছে কষ্টের আরেক নাম ১৫ আগষ্ট। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর মনে-মননে ধারণ না করে কেবল আনুষ্ঠানিকতার মাধ্যমে তাকে স্মরণ করা আসলে তার প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা নিবেদন নয়। তাছাড়া লোকদেখানো ঠুনকো আবেগ দিয়ে নয়, তাকে শ্রদ্ধা জানাতে হবে তাঁর আদর্শের যথাযথ বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে। ১৫ই আগস্ট বাঙালি জাতির স্বপ্নদ্রষ্টা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বিদেহী আত্মার প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা রইলো। অধ্যাপিকা রুমানা আলী টুসি সংসদ সদস্য -৩১৪, সংরক্ষিত আসন। সদস্য- অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি, বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ।

অধ্যাপিকা রুমানা আলী টুসি
সংসদ সদস্য -৩১৪, সংরক্ষিত আসন।
সদস্য- অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি, বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2020 Raytahost
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: রায়তা-হোস্ট
banglatimes_y6e209