বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২০, ১০:১০ পূর্বাহ্ন
সবশেষ :
শ্রীপুরে আমার বাড়ি আমার খামার প্রকল্পের টাকা বিতরণ শ্রীপুর উপজেলা শিক্ষা অফিসারের বিদায় সংবর্ধনা শ্রীপুর পৌরসভাকে আধুনিক পৌরসভায় রূপান্তর করতে চান সফল ছাত্র রাজনীতিক রবিন অসুস্থ সাংবাদিকের পাশে দাঁড়ালো শ্রীপুর সাংবাদিক কল্যাণ সংস্থা শ্রীপুরে দাবিকৃত চাঁদা না পেয়ে ব্যবসায়ীকে প্রাণনাশের হুমকি বিআরটিএ-এর সহকারি রাজস্ব কর্মকর্তার গ্রাহক হয়রানি-দুর্ব্যবহারের অভিযোগ শ্রীপুরে মুক্তিযোদ্ধাকে মারধর, জমি দখলের ঘটনায় মামলা বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন ও সামাজিক দায়বদ্ধতা মাথায় রেখে সাংবাদিকদের কাজ করতে হবে সাংবাদিকদের কল্যাণে কাজ করবে শ্রীপুর সাংবাদিক কল্যাণ সংস্থা শ্রীপুরে সীমানা প্রাচীর ভাঙচুর করে জমি দখলে নেয়ার হুমকি

আমার ক্যাম্পাস ও সংগঠন নিয়ে কিছু কথা

মো. আবুসাঈদ আকন্দ
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২৩ জুন, ২০২০
  • ২০০ বার পঠিত

দেশে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ১৮ বছরের সবাই একটি জাতীয় পরিচয়পত্র পাই। এই পরিচয়পত্রে আমাদের অভিন্ন পরিচয় উল্লেখ থাকে; জাতীয়তাঃ বাংলাদেশি। এখানে রাজনৈতিক-অরাজনৈতিক বিষয়ে কোনো তথ্যের উল্লেখ থাকে না।

একইভাবে যেকোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে অভিন্ন প্রক্রিয়ায় ভর্তির পর আমরা যে পরিচয়পত্র পাই সেখানেও নাম, বিভাগ, রেজিঃ নম্বরের মতো তথ্যগুলোই দেওয়া থাকে। কে-কোন দল করে এসব বিষয়ে কোনো তথ্য থাকে না। বিশ্ববিদ্যালয়ে একাডেমিক পড়াশোনার বাইরে নিজের ভালোলাগার মতো অনেক কিছু করার সুযোগ থাকে।

ক্যাম্পাসে কাজ করার জন্য সামাজিক, সাংস্কৃতিক, গণমাধ্যম, প্রগতিশীল রাজনৈতিক সংগঠনসহ অনেক কিছুর সাথেই নিজেকে যুক্ত করার অবারিত সুযোগ রয়েছে। তাই ক্যাম্পাসে ভর্তির পর থেকে আমাদের পরিচয়ের প্রশ্ন উঠলে আমরা এই ক্যাম্পাসের ছাত্র এটাই সবার মনে রাখা উচিত; এরপর যার যার সাংগঠনিক পরিচয়।

প্রোগ্রাম দেখি, সাস্ট ডিবেটিং সোসাইটির ডিবেট উপভোগ করি, রিম, নোঙরের কনসার্টে যাই। এ সকল আয়োজনের পুরোটাই আমাদের জন্য। এখানে কোনো ধর্ম, বর্ণ আর আদর্শের ভেদাভেদ নাই। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, মুখ্য পরিচয় বাদ দিয়ে গৌণ পরিচয়টা বেশি প্রচার করা হয়। আর ব্যক্তিটি যদি রাজনৈতিক সংগঠনের হয় তাহলে তো কথাই নেই। অবশ্য অন্য সংগঠনের নাম সেভাবে সামনে আসে না সচরাচর। আমি ব্যক্তিগতভাবে এই ধরনের প্রচার বিরোধী। ব্যক্তি পরিচয় আর রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা সম্পূর্ণ আলাদা বিষয়। একটার দ্বায়ভার অন্যটির ওপর চাপানো অনুচিত। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চশিক্ষিত সচেতন ভাইবোনদের কাছে আমার সবসময়ের প্রাণের দাবি, এই আলাদা বিষয়গুলোকে আপনারা আলাদা করেই মূল্যায়ন করবেন।

অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী মাহির চৌধুরীর বিরুদ্ধে প্রশাসনের মামলা সাস্টের ইতিহাসের অন্যতম নিকৃষ্ট ঘটনার একটি। মাহির সম্পর্কে যতটুকু জেনেছি, সে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী প্রগতিশীল চিন্তাধারারই একজন। শিক্ষক, শিক্ষার্থী, প্রশাসন, রাজনীতি, সংস্কৃতি সব কিছু নিয়েই আমাদের ক্যাম্পাস। এখানে একটা অন্যটার সাংঘর্ষিক নয়; বরং পরিপূরক।

অনলাইনে ক্লাস বর্জন ইস্যুতে সক্রিয় থাকায় ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে প্রক্টরের প্রত্যক্ষ মদদে নিজ বিভাগের ছাত্রের ওপর এই মামলা এটাই স্বাক্ষ্য দেয় যে, কোনো শিক্ষার্থীই তার কাছে নিরাপদ নয়। তাই তাকে সরিয়ে প্রকৃত অভিভাবক সমতূল্য কাউকে প্রক্টরের দায়িত্বে বসানো উচিত, যিনি সন্তান ভেবে সবাইকে বুকে আগলে রাখবেন। দমন-পীড়ন নীতি কখনো একটা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ হতে পারে না। প্রশাসনের এই নীতি প্রগতিশীল, মুক্ত সংস্কৃতি, মুক্তচিন্তা বিকাশের পথে চরম অন্তরায়।

বিগত সময়ের আরও কিছু ঘটনায় প্রশাসনের এই নগ্ন চরিত্র সবার কাছে পরিস্কার হয়ে গেছে এখন। তাই ক্যাম্পাসের একজন সাবেক ছাত্র হিসেবে, প্রগতির পতাকাবাহী সংগঠনের একজন কর্মী হিসেবে তাদের এই নগ্নতার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি এবং মাহিরের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার দ্রুত প্রত্যাহার দাবি করছি।

নিজের সংগঠন নিয়ে যেটুকু না বললেই নয়, আমি আত্মসমালোচনার পক্ষে। হাজারটা দোষ আমার। তবে যে কাউকে দেখে শেখার মানসিকতা আছে, ভুল স্বীকার করার সৎ সাহস আছে। আজ ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের যতটুকু সমালোচনা, এর সবচেয়ে বড় কারণ যদি সাবলীল ভাষায় বলি তা হচ্ছে, দুর্বল নেতৃত্ব।

আমাদের জেলা ইউনিটগুলোর নেতৃত্ব নির্বাচনের সিস্টেমে কিছু  সমস্যা আছে। শুধুমাত্র এই একটা ভুলের কারণেই মৌলবাদী শক্তির হাতে  আমাদের বিরুদ্ধে কথা বলার ইস্যু  তুলে দেই আমরা। ছাত্রলীগের ব্যাপ্তি বিশাল; তাই তার দায়িত্বও বেশি। সবচেয়ে বড় সংগঠন হওয়ার কারণে এর কাজের পরিধিও বড়।

দুঃখজনক হলেও সত্য, ইতিহাস ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবং এর সকল অঙ্গ সংগঠন, সহযোগী সংগঠনে এখন পার্টটাইম রাজনীতি করা লোকের সংখ্যাধিক্য।  এরা দলের সুদিন দেখে আসে। আবার দুর্দিন থেকে চুপচাপ সরে যায়। এদের আগমনী গান সকলের দৃষ্টিগোচর হলেও প্রস্থানটা হয় অতি সঙ্গোপনে।

এসেই তারা শর্টকাটে সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করার চেষ্টা করে। আর সমস্যার শুরুটা এখান থেকেই। সফলতার এমনকি ভালো কিছু করার কোনো শর্টকাট রাস্তা নেই। ধৈর্য্য এবং কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমেই এগুলো অর্জন করতে হয়। কারণ রাজনীতি পৃথিবীর সবচেয়ে ধীর গতির দীর্ঘ প্রক্রিয়া।

আওয়ামী লীগ সরকার তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায়। প্রথম মেয়াদ থেকে শুরু করে এই তৃতীয় মেয়াদ পর্যন্ত জ্যামিতিক হারে দলটির নেতাকর্মী, সমর্থক বেড়েই চলেছে। কে কার চেয়ে কত বড় আওয়ামী লীগার, এই প্রমাণ দিতেই ব্যস্ত সবাই। আদর্শ চর্চার নাম করে এমন অসুস্থ প্রতিযোগিতায় নেমে স্বজ্ঞানে-অজ্ঞানে দলের বারোটা বাজাচ্ছেন একেকজন। এই বিতর্কিত ব্যক্তিবর্গ কথায় কথায় দলীয় প্রধানের নাম বিক্রি করে। কারণ তাদের ব্যক্তিগত অর্জন শূণ্যের ঘরে। অতি ধূর্ত এই নব্য রাজনীতিবিদদের বাচনভঙ্গি, রুচিবোধ, নীতি-আদর্শ, সংগঠনে অবদান কোনোটাই একজন নিরপেক্ষ সাধারণ মানুষকে আওয়ামী লীগের প্রতি ইতিবাচক ধারণা জন্মাতে অনুপ্রাণিত করতে পারে না।

বিপরীতক্রমে তাদের অশালীন কর্মকাণ্ডের ফলে দলের প্রতি সাধারণ ভোটারদের নেতিবাচক মনোভাব তৈরি হয়। মতের অমিল হওয়ার কারণে এরা যখন খুশি, যাকে খুশি, যেভাবে খুশি শিবির ট্যাগ দিচ্ছে। ফলশ্রুতিতে প্রকৃত শিবির যারা, তারা আলোচনার বাইরে থেকে যাচ্ছে। এই যত্রতত্র ট্যাগ দেওয়ার ফলে সংগঠন এবং নেতাকর্মী সম্পর্কে জনমনে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হচ্ছে। এতে দীর্ঘমেয়াদে দল ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

রাজনীতি করতে হলে ব্যক্তি ইমেজ থাকা জরুরি। নেতা হিসেবে কাউকে পছন্দ হলে ওই নেতার দল যাই হোক না কেন, মানুষ পছন্দের ব্যক্তির পেছনেই দাঁড়ায়। আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে ছাত্ররাজনীতি থেকে শুরু করে মূল দল পর্যন্ত এটাই চলে। তাই পার্টটাইম ভাইদের প্রতি বিনীত অনুরোধ, আপনারা গরু মোটাতাজাকরণের মতো শর্টকাট সিস্টেম পরিহার করে নেতা-সুলভ চরিত্র গঠন করুন। তাহলেই আমাদের মতো অল্প জ্ঞানের সাধারণ মানুষজন আপনার পেছনে স্বাচ্ছন্দে দাঁড়াতে পারবে।

পারলে ত্রাস না হয়ে যোগ্যতা দিয়ে মানুষের ক্রাশ হয়ে দেখান; দল উপকৃত হবে। ভুলে গেলে চলবে না রাজনীতির নামে কারও ভীতির কারণ হয়ে দলের ক্ষতি করার মেন্ডেড আমাদের কাউকেই দল দেয়নি। আর অতি উৎসাহী রাজনীতি যেকোনো দলের জন্য কখনই শুভকর নয়।

ক্যাম্পাসের যেকোনো ইস্যুতে রাজনৈতিক কথা বলতে হবে-এমন কোনো বাধাধরা নিয়ম নেই। সাস্টে আনুমানিক ১৩-১৪ হাজার শিক্ষার্থী আছে, যাদের মধ্যে সব দল মিলিয়ে সক্রিয় রাজনীতিবিদ খুব বেশি হলে ১৩০০-১৪০০ হবে। এর মানে মেজোরিটি সরাসরি রাজনীতি করে না। কিন্তু তারাও কোনো না কোনো আদর্শ লালন করে। আমরা সংগঠনের প্রতিনিধিত্ব করে কোনো বিষয়ে মন্তব্য করলে সেটা দলের জন্য কতটুকু ইতিবাচক/নেতিবাচত প্রভাব ফেলবে, তা অবশ্যই ভাবতে হবে। অতি আওয়ামী লীগার সাজতে গিয়ে সবার কাছে দল যেন বিতর্কিত না হয় এই বিষয়ে আমাদের অবশ্যই সচেতন থাকা উচিত। সংগঠনের নাম করে ক্যাম্পাসের এ-টু-জেড প্রতিটি বিষয়ে সাবেকদের উপদেশ দেওয়াটাও একটু বেমানান। ১০ বছর আগের ক্যাম্পাস আর ১০ বছর পরের ক্যাম্পাসের প্রেক্ষাপট কখনই এক হবে না। সাবেকদের নিকট বর্তমানরা কোনো বিষয়ে পরামর্শ চাইলে আমরা অংশ গ্রহণ করতে পারি, অন্যথায় দূরে থাকাই শ্রেয়।

পরিশেষে বলতে চাই, সবার স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে নিজেদের ভুল-ত্রুটি একপাশে রেখে সারা দেশে গর্ব করার মতো পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধা-ভালোবাসার এই অনন্য টান যুগযুগ টিকে থাকুক, আদি থেকে অন্ত পর্যন্ত প্রতিটি সাস্টিয়ানের প্রাণে।

 

মো. আবুসাঈদ আকন্দ  সাবেক ছাত্র পিএসএস বিভাগ, সাস্ট ও সাবেক সহসভাপতি, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদ

 

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2020 Raytahost
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: রায়তা-হোস্ট
banglatimes_y6e209